শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সংবাদপত্রের গুরুত্ব¡¡ : স্বৈরশাসন বনাম গণতন্ত্র

আহমদ মতিউর রহমান

 

গণতান্ত্রিক বিশ্বে সংবাদপত্রের গুরুত্ব¡ অপরিসীম। স্বৈরতন্ত্রে সংবাদপত্রের গুরুত্ব কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক প্রভাবহেতু বিষয়টি নতুন করে নির্ণয়ের দাবি রাখে। কিন্তু একটা কথা এখনো অনস্বীকার্য যে ছাপা সংবাদপত্রের গুরুত্ব থেকেই যাচ্ছে। আমরা সংবাদপত্র তাকেই জানি যা প্রতিদিন ভোরে বাড়ির দোরগোড়ায় হকার পৌঁছে দেয়। ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার আগেই সেদিনের পত্রিকার পাতাটি দেখা শহরের মানুষের দীর্ঘ দিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোভিডের সময়টাতে ছাপা সংবাদপত্র হোঁচট খায়। এটা বিশ^ব্যাপী কমন চিত্র। উন্নত বিশে^ বহু সংবাদপত্র এরপর বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংকট আমাদের মতো উন্নয়নশীল  দেশে একটু বেশি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। ছাপা পত্রিকার পুরনো বৃত্তে ফিরছে মানুষ। 

পৃথিবীর ইতিহাসে সংবাদপত্রের বয়স একেবারে কম নয়। ১৫৫৬ সালে ইতালিতে এর সূচনা। এর পর চীন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশসমূহ আর আমেরিকায়ও সংবাদপত্র প্রকাশ হতে শুরু করে। এই পরিক্রমায় ৪০/৪৫ বছর সময় লেগেছে। আমাদের এই অঞ্চলে বিশেষ করে বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশের পর ২০০ বছর অতিক্রম করেছে বছর পাঁচেক আগে। অধুনা সংবাদপত্রের নানা বাঁক বদল ঘটেছে আর সব শেষে অনলাইন সংবাদপত্র যার শেষ নমুনা। বিশ্বে অনেক নামিদামি পত্রিকা এখন আর ছাপা কপি বের করে না। শুধুমাত্র অনলাইনে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। মোটা দাগে সংবাদপত্র হল একটি লিখিত প্রকাশনা যার মধ্যে থাকে বর্তমান ঘটনা, তথ্যপূর্ণ নিবন্ধ, সম্পাদকীয়, বিভিন্ন ফিচার এবং বিজ্ঞাপন। 

পৃথিবীর ইতিহাসে সংবাদপত্রের ভূমিকা অনেক। সংবাদ ও সংবাদ ভাষ্য প্রকাশের সাথে সাথে মতপ্রকাশ ও জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু এই আধুনিক যুগে এসেও দেশে দেশে টোটালিটারিয়ানিজম বা কর্তৃত্ববাদ চেপে বসায় সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে না। ফলে মানুষ অধিকার হারাচ্ছে, গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে। 

২০০৭ সালের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী দৈনিক খবরের কাগজের সংখ্যা এ সময় ছিল ৬,৫৮০টি যারা একদিনে প্রায় ৩৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি কপি বিক্রি করত। বর্তমানে অবস্থার বদল ঘটেছে যে কথা আগেই বলেছি। একটি সংবাদপত্র সাধারণত চারটি মানদ- পূরণ করে- প্রচার: এর বিষয়বস্তু জনসাধারণের জন্য যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রবেশযোগ্য। পর্যায়বৃত্তি: এটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। প্রচলন: এটির তথ্য প্রকাশনার সময়সূচি হিসেবে হালনাগাদকৃত থাকবে। সার্বজনীনতা: বিষয়ের একটি পরিসীমা এটি কভার করবে।

দৈনিক পত্রিকা আমাদের নিত্যসঙ্গী। এর প্রতি আমাদের আকর্ষণ কিন্তু কমছে না। দেশে-বিদেশে নানা সংকট মুহূর্তে সর্বশেষ সংবাদ জানার জন্য মনে আকুলতা সৃষ্টি হয়। ইলেকট্রিক মিডিয়ার বদৌলতে ত্বরিৎ আমরা সে খবর পাচ্ছি। তবে বিস্তারিত খবরের আশায় এবং রেকর্ড হিসেবে রাখার জন্য আমরা এখনও ছাপা পত্রিকার উপরই নির্ভর করি। 

প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের খবর মানুষের মনে ভালো-মন্দ নানাবিধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ প্রতিক্রিয়া কখনো মনে শিহরণ জাগায়, কখনো বেদনা ও হতাশার অনুভূতি জাগ্রত করে, কখনো কৌতূহল উদ্দীপন করে, আবার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার নতুন নতুন  দিগন্ত উন্মোচন করে। এভাবে একটি পত্রিকা আমাদের জীবনকে নানাভাবে দোলায়িত করে। 

সংবাদপত্র একদিকে যেমন আমাদের মনে বৈচিত্র্যময় আনন্দ-বেদনা-বিস্ময়-কৌতূহল উৎপাদন করে, অন্যদিকে তেমনি আমাদেরকে জ্ঞানালোকে সমৃদ্ধ, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সচেতন ও স্বীয় কর্তব্য নির্ধারণে সাহায্য করে। চলমান পৃথিবীর সাম্প্রতিকতম অবস্থার সাথে জীবনকে খাপ খাইয়ে চলতে সাহায্য করে। 

সংবাদপত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর ক্ষুদ্র-বৃহৎ নানা খবর যেমন পরিবেশিত হয়, তেমনি সারা বিশ্বের বিভিন্ন জনপদ, দেশ ও সমাজের জনমত এতে বিধৃত হয়। সংবাদপত্রের দু’টি প্রধান দিক বা বিভাগ রয়েছে। একটি খবর পরিবেশন, দ্বিতীয়টি জনমত গঠন। নীতিগতভাবে এ উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব¡ দেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, তবে এর ব্যতিক্রমও প্রায় সর্বক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। খবর পরিবেশন ও জনমত সৃষ্টি এ উভয় ক্ষেত্রে অনেকেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিরপেক্ষতার নীতি বিসর্জন দিয়ে থাকেন। কখনো ব্যক্তি স্বার্থে, কখনো জাতীয়, দলীয় বা গোষ্ঠী স্বার্থে, আবার কখনো রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষতা বিসর্জিত হয়।

 à¦¸à¦¬à¦šà§‡à§Ÿà§‡ খারাপ নজির তৈরি হয় কর্তৃত্ববাদী শাসনকালে। বাংলাদেশে বিগত ১৬ বছর কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে সংবাদপত্র তার গুরুত্ব হারিয়েছিল। সত্যি কথা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে কর্তত্ববাদী ও স্বৈর সরকারগুলো বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে পাঠযোগ্য কিছু না পেয়ে, সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পড়তে না পেরে মুখ ফিরিয়ে নেন পাঠকরা। এটা সংবাদপত্রের গুরুত্ব কমায় বটে কিন্তু এর দায় রাষ্ট্র ব্যবস্থার, পাঠকের নয়। সংবাদপত্রগুলোর দায় থাকতে পারে, কারণ তারা অতোটা সাহস করতে পারে না। à§« আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সেই গুমোট অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধ পত্রিকা মিডিয়াগুলো খুলেছে। ্আর সব পত্রিকাই এখন কার্যত স্বাধীনতা উপভোগ করছে। এর ফলে সংবাদপত্রের বেচাবিক্রি ও গুরুত্ব বেড়েছে। 

আমাদের দেশের ইতিহাস, সামাজিক-রাজনৈতিক উত্থান-পতনের দৃশ্য পর্যালোচনা করলে সংবাদপত্রের ভূমিকা ও গুরুত্ব¡ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষায় প্রথম যে পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তার নাম ‘বেঙ্গল গেজেট’। এর সম্পাদক ছিলেন গঙ্গাধর ভট্টাচার্য। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কবি ঈশ্বরগুপ্তের সম্পাদনায় ‘সংবাদ প্রভাকর’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পরে এটি দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয় এবং এর সম্পাদক হন যথাক্রমে রামচন্দ্রগুপ্ত ও গোপাল মুখোপাধ্যায়। ১৮৪০ খৃস্টাব্দে ইংরাজি ও বাংলা ভাষায় সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান, রবিনসন, রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও চন্দ্রনাথ বসু। ১৮৪৩ খৃস্টাব্দে অক্ষয়কুমার দত্ত সম্পাদিত ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৮৪৬ খৃস্টাব্দে ঈশ্বরগুপ্তের দ্বিতীয় পত্রিকা ‘পাষন্ড পীড়ন’ প্রকাশিত হয়। ১৮৪৭ খৃস্টাব্দে ঈশ্বরগুপ্তের তৃতীয় পত্রিকা ‘সাধুরঞ্জন’ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এ দু’টি পত্রিকাই বেশি দিন টিকেনি। কলকাতা থেকে ও পরে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কোন কোনটি শতবর্ষ ধরে প্রকাশিত, কোন কোনটি বন্ধ হয়ে গেছে। 

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগের জন্ম, এরপর দেশব্যাপী স্বদেশী আন্দোলন, ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ, ১৯১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, ১৯১৯-২২ সালে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন পাস, ১৯৩৭ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন, ১৯৩৯-৪৫ সময়কালে সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব গ্রহণ, ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তর, ১৯৪৬ সালে গণভোট অনুষ্ঠান, হিন্দু-মুসলিম রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালে স্বাধীন পাকিস্তান ও স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বড় বড় সব ঘটনার পিছনে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে মুসলিম জাতীয়তাবাদ আন্দোলন, স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, খিলাফত আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে উপরোক্ত বিভিন্ন সাময়িক ও দৈনিক পত্রিকার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক গুরুত্ব¡à¦ªà§‚র্ণ। বাঙালি হিন্দুর নবজাগরণের সূত্রপাত হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে। এর প্রায় অর্ধশত বছর পর বাঙালি মুসলিম নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় থেকে বাঙালি মুসলমানগণ ধীরে ধীরে ইংরাজি শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসর হতে থাকে। ইংরাজি শিক্ষিত মুসলিম যুবকেরা অনেকেই সরকারি চাকরি লাভ করে ও সে সাথে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে এগিয়ে আসে। বাঙালি মুসলমানদের এ নবজাগরণের সূচনালগ্নে ও তার উত্তরণে মুসলমানদের পরিচালিত ও সম্পাদিত উপরোক্ত মাসিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ গুরুত্ব¡à¦ªà§‚র্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বাংলা ভাষা আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তানের (প্রাক্তন) স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয়-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ইত্যাদি জাতীয় গুরুত্ব¡à¦ªà§‚র্ণ বিভিন্ন পর্যায়ে তখনকার সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিল অতীব গরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে সংবাদপত্রের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রক্ষীবাহিনীর হাতে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ নিরন্ন মানুষের করুণ মৃত্যু, ইত্যাদি নানা অরাজক-বিশৃঙ্খল অবস্থার কঠোর সমালোচনার মুখে একদলীয় বাকশাল গঠন, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ ও ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। ফলে অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়। এ থেকে সংবাদপত্রের শক্তি ও গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। 

পঁচাত্তরের পট-পরিবর্তনের পর সংবাদপত্রের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটে। এরপর  জাতিগঠন, অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন, নির্বাচিত স্বৈরশাসনের বিরোধিতা, প্রহসনমূলক নির্বাচন এবং জাতীয় পর্যায়ের ব্যাপক দুর্নীতি, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূরীকরণ, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক সময় বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সংবাদপত্র বিশেষ গুরুত্ব¡à¦ªà§‚র্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগেই বলেছি, গণতন্ত্র বিকাশে এবং জনমত গঠনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অনেক। এসব আন্দোলন-সংগ্রামে সংবাদপত্র ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। 

সংবাদপত্রের এ গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলে সর্বদা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম হননি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বিক জনকল্যাণের বিষয়কে তারা অনেকেই ব্যক্তিগত, দলীয় ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের নিকট জলাঞ্জলি দিয়ে থাকেন। এ নেতিবাচক আত্মহননের পথ থেকে সংবাদপত্র ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে, জনস্বার্থে ও জাতীয় স্বার্থে তাদেরকে সকল সংকীর্ণ স্বার্থ বিসর্জন দিতে হবে। সত্যকে সত্যরূপে এবং মিথ্যাকে মিথ্যারূপে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সাহসী ভূমিকা পালনে সকলকে সদা তৎপর থাকতে হবে।

এখন দু’দিক থেকে সংবাদপত্রের সংকট। প্রথমত অনলাইন যুগে ছাপা পত্রিকা টিকে থাকা নিয়ে সংশয় আছে। সংবাদপত্র পাঠকের স্বল্পতা ক্রমশ এমনভাবে প্রকট হচ্ছে যে ধীরে ধীরে সংবাদপত্রের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাঠক এখন আর আগের মতো সংবাদপত্র কিনে পড়তে চায় না। 

এই সংকট পশ্চিম বঙ্গের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। দু’চারটি কাগজ ছাড়া প্রচার সংখ্যা কারোই তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।

 à¦¬à¦¾à¦‚লাদেশে প্রতিদিন কয়েক শত দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। শুধু ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার শুমার করাই কঠিন। কিন্তু এগুলোর প্রচার সংখ্যা এতই সীমিত যে এর দ্বারা সমাজের, গণতন্ত্রের কতটা উন্নতি হয় তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো বা সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। এই সংকট থেকে উত্তরণে সাহসী সম্পাদক যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন একটি গণতান্ত্রিক বাতারবণ। à§« আগস্টের অভূতপূর্ব বিপ্লব নতুন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ এনে দিয়েছে, দিয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অর্জিত এই পরিসরটি অব্যাহত রাখা খুবই জরুরি।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ